কাউয়াদিঘি হাওর সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরিতে হাওর রক্ষা আন্দোলনের সভা অনুষ্ঠিত
মৌলভীবাজার: হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন, ২০২৬-এর আলোকে হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিষয়ে অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কাউয়াদিঘি হাওরের ভুরবুড়ি জোড়াব্রিজে হাওর রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাওর রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও মুন্সীবাজার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আশিক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন হাওর রক্ষা আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট পরিবেশবাদী ব্যক্তিত্ব আ স ম ছালেহ সুহেল, সদস্যসচিব এম. খছরু চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য মো. আলমগীর হোসেন ও মুকুল আহমদ। এ সময় এলাকাবাসীর মুরব্বি, যুবক ও তরুণদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ, সদস্য শামীম তরপদার, সাবেক সদস্য রেজাউল ইসলাম রাজা, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন, মেন্দি মিয়া, আয়রন মিয়াসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সভায় বক্তারা বলেন, কাউয়াদিঘি হাওর মহান সৃষ্টিকর্তার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন। ভুরবুড়ি জোড়াব্রিজে দাঁড়িয়ে রাস্তার দুই পাশের হাওর ও জলাধারের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক এখানে আসেন। এই সৌন্দর্য ও পরিবেশের শৃঙ্খলা রক্ষা করা এলাকার যুবক ও তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বক্তারা আরও বলেন, হাওর ভরাট করে শিল্পায়ন কিংবা কৃত্রিম মৎস্য খামার গড়ে তোলা হলে হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এর জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা হাওরের জমি স্বল্পমূল্যে ক্রয় করে, সরকারি খাস জমি দখল করে কিংবা ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে হাওরের পরিবেশ ধ্বংস করতে চাইছেন, তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬, ভূমি আইন ও পরিবেশ আইনসহ প্রচলিত আইনসমূহ হাওরের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বক্তারা হাওর, নদী ও সরকারি খাস জমি দখলকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় কাউয়াদিঘি হাওরের অন্যতম সমস্যা হিসেবে মনু সেচ প্রকল্পের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ঘনঘন বন্যার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, হাওরকেন্দ্রিক স্বার্থান্বেষী একটি শ্রেণি গড়ে উঠেছে, যারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় হাওরের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে প্রভাবিত করছে। তারা আরও বলেন, হাওরের মাঝখানে অবস্থিত হাওয়ার বিল থেকে হাওরের সারা বছরের পানির স্তর নির্ধারণকারী মিটার সরিয়ে কাশেমপুর পাম্প হাউসে নেওয়া হয়েছে। বক্তাদের মতে, এই পরিবর্তন কৃষকদের জন্য বিভ্রান্তি ও ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। হাওরের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিজ্ঞানসম্মত নিয়মে পানির স্তর নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা হাওরের জলসম্পদ ও মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন, কৃষকদের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং হাওরের পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, হাওর শুধু কৃষি ও মৎস্যসম্পদের উৎস নয়, এটি আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্পদ। তাই হাওর রক্ষায় আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। হাওর রক্ষা আন্দোলন হাওর ও জলাভূমির পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
Read More